গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেকটাই কমেছে। তবে কর্মী ছাঁটাই কম হওয়ায় শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আমদানি শুল্ক ও সরকারি খাতে কর্মসংস্থান সংকোচনের প্রভাব ভবিষ্যতে দেশটির শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন শ্রম বিভাগের জব ওপেনিংস অ্যান্ড লেবার টার্নওভার সার্ভের (জেওএলটিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শেষ নাগাদ দেশটিতে চাকরির খালি পদ আগের মাসের তুলনায় ২ লাখ ৮৮ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ৭১ লাখ ৯২ হাজারে। ফেব্রুয়ারির সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল ৭৪ লাখ ৮০ হাজারটি।
রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন মার্চেও চাকরির সংখ্যা ফেব্রুয়ারির মতোই থাকবে। তবে ওই মাসে নিয়োগ ৪১ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৪ লাখ ১১ হাজারে। এর থেকে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে মার্চে কর্মী ছাঁটাই ২ লাখ ২২ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫৮ হাজারে। এ প্রবণতা শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপের কারণে খরচ বাড়তে পারে। এ কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব নিয়োগেও পড়তে পারে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি খাতে নিয়োগ বন্ধ ও কর্মী ছাঁটাইয়ের যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে শ্রমবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শ্রমবাজারে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রয়েছে।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি বাদ দিয়ে অন্য খাতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে স্থির থাকতে পারে।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নিয়োগে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও কম ছাঁটাইয়ের কারণে শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।